ঈশ্বর আরাধনার একটি পদ্ধতি হচ্ছে 'যোগ'। সাধারণভাবে 'যোগ' শব্দের অর্থ হচ্ছে কোনো কিছুর সঙ্গে অন্য কিছু যুক্ত করা। ধর্ম অনুশীলনের ক্ষেত্রে এর অর্থ হচ্ছে জীবাত্মার সঙ্গে পরমাত্মার বা ঈশ্বরের যোগসাধন করা। 'যোগ' শব্দটি সংস্কৃত 'যজ্' ধাতু থেকে উৎপন্ন হয়েছে। এর প্রধান অর্থ হলো মিল। যোগক্রিয়া জীবাত্মা পরমাত্মার মিলন ঘটায়। আবার চিত্ত নিবৃত্তির এক নাম হলো যোগ। যোগ দর্শনের প্রণেতা মহর্ষি পতঞ্জলি 'যোগ' শব্দের অর্থ করেছেন চিত্তবৃত্তি নিরোধ। সুতরাং যোগ বলতে বোঝায়, চিত্তবৃত্তি নিরোধ করে নিষ্কামভাবে ভগবানের সঙ্গে ও তাঁর সত্য চেতনার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করা।
যোগের আটটি অঙ্গ। যথা-
১। যম যম মানে সংযমী হওয়া।
২। নিয়ম - শরীরের প্রতি যত্ন নেওয়া। নিয়মিত ও পরিমিত স্নান, আহার ও বিশ্রাম করা।
৩। আসন বিশেষ ভঙ্গিতে বসাকে আসন বলে।
৪। প্রাণায়াম শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ করার পদ্ধতিকে প্রাণায়াম বলে।
৫। প্রত্যাহার - মনকে বহির্মুখী হতে না দিয়ে অন্তর্মুখী করাকে প্রত্যাহার বলে।
৬। ধারণা কোনো এক বিষয়ে মনকে একাগ্র করা।
৭। ধ্যান কোনো এক বিষয়ে মনের অবিচ্ছিন্ন চিন্তা।
৮। সমাধি ধ্যানস্থ অবস্থায় মন যখন ইষ্টচিন্তায় সম্পূর্ণভাবে নিমগ্ন থাকে তখন সে অবস্থাকে বলা হয় সমাধি।
| একক কাজ যোগের অঙ্গগুলো ধারাবাহিকভাবে লেখ। |
আসন যোগের তৃতীয় অঙ্গ। স্থিরসুখমাসনম্ স্থির ও সুখাবহ অবস্থিতির নামই আসন। সুতরাং যোগ অভ্যাস করার জন্য যেভাবে শরীরকে রাখলে শরীর স্থির থাকে অথচ কোনো কষ্টের কারণ ঘটে না, তাকে যোগাসন বলে। ঈশ্বর আরাধনার ক্ষেত্রে দেহ এবং মন উভয়েরই গুরুত্ব রয়েছে। দেহকে আশ্রয় করে ধর্ম সাধনা অগ্রসর হয়। তাই দেহকে সুস্থ রাখা সাধনার পূর্বশর্ত। আর যোগাসন হচ্ছে দেহ ও মনকে সুস্থ রাখার একটি প্রক্রিয়া। সেজন্য প্রাচীনকালে মুনি-ঋষিগণ শরীর ও মনকে সুস্থ রাখার উপায় হিসেবে যোগাসন অনুশীলনের বিধান দিয়ে গেছেন। যোগাসনের সংখ্যা অনেক, যেমন- শবাসন, সিদ্ধাসন, গোমুখাসন, সর্বাঙ্গাসন ইত্যাদি।
| একক কাজ: দেহ ও মনের সাথে যোগাসনের সম্পর্ক চিহ্নিত কর। |
নতুন শব্দ : জীবাত্মা, পরমাত্মা, যোগক্রিয়া, চিত্ত নিবৃত্তি, মহর্ষি, চেতনা, সংযমী, প্রাণায়াম, একাগ্র, অবিচ্ছিন্ন, আরাধনা, বিধান, প্রক্রিয়া, শবাসন, সিদ্ধাসন।
Read more